রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
ওসি আব্দুস সালাম যদি পাবনা সদর থানায় পুনরায় যোগদান করেন, তাহলে পুর্বে মাদক ব্যাবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সাথে ওসি’র সখ্যতার কারনে অভিযান পরিচালনার আগেই তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। Reading Time: 4 minutes
নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা :
পাবনা সদর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুস সালামের পাবনায় যোগদানের খবরে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে উচ্ছাস ও আনন্দ লক্ষ্য করা গেছে। ওসি আব্দুস সালাম পাবনায় যোগদান করলে পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহর মাদক ও সন্ত্রাস দমনের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে পারে। অন্তবর্তিকালীন সরকারের সময়ে পাবনা সদর থানার ওসি’র দায়িত্ব পালনকালে ওসি আব্দুস সালাম মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ওসি আব্দুস সালাম যদি পাবনা সদর থানায় পুনরায় যোগদান করেন, তাহলে পুর্বে মাদক ব্যাবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সাথে ওসি’র সখ্যতার কারনে অভিযান পরিচালনার আগেই তাদেরকে সতর্ক করে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্তবর্তিকালীন সরকারের সময়ে আব্দুস সালাম পাবনা সদর থানায় দায়িত্ব পালনকালে তার ইন্ধনে রাধানগর, নুরপুর, গাছপাড়া, বিলভাদুড়িয়া, টেবুনিয়া, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, রেল স্টেশন, চামড়ার গোডাউন, আরিফপুর, বাংলাবাজার ও পাবনা সদরের বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে মাদক ব্যাবসায়ীদের ব্যাবসা করার সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোন পুলিশ কর্মকর্তা বা সদস্য মাদক ব্যাবসায়ীদের গ্রেফতার করলেও বিশেষ রফায় তাদেরকে ১৫১ বা সাধারণ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরন করার অভিযোগ রয়েছে ওসি আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে।
সুত্রমতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের বিলভাদুরিয়া গ্রামের হিরো কালামের ছেলে মাদক সম্রাট মোঃ খোকন (৪৫) কে গ্রেফতার করে এসআই মাহবুব ও জাহিদ। গ্রেফতারের পর বুধবার সকালে ওসি আব্দুস সালামের কাছে জানতে চাওয়া হয় মাদক ব্যাবসায়ী খোকনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা এবং তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলা আছে কি না। জবাবে ওসি আব্দুস সালাম বলেন, খোকন একজন চিহিৃত মাদক ব্যাবসায়ী, তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে। ওসি আরো জানান, মাদকের বিরুদ্ধে আমি জিরো টলারেন্স। ওসি এও জানান, খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের নিয়মিত মামলা হবে। ওসি আব্দুস সালাম এমন কঠোর মন্তব্যে করার পর ওই দিন সন্ধায় খোকন জামিন নিয়ে বাড়িতে চলে যায়। এদিকে খোকনের জামিনের বিষয়ে তৎকালীন কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোকনকে ১৫১ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। আদালতের বিচারক এই মামলায় তাকে জামিন দিয়েছে। এ বিষয়ে ৯ অক্টোবর ওসি আব্দুস সালামের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনি বললেন খোকন চিহিৃত মাদক ব্যবাসায়ী। তাকে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার দেখানোর কারন জানতে পারি। জবাবে ওসি বলেন, তার কাছে মাদক না পাওয়ায় ১৫১ ধারায় আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। একটি সুত্র সেই সময়ে জানায়, ওসি আব্দুস সালামের সাথে বিশেষ রফার মাধ্যমে বিএনপি’র এক কর্মী তাকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর একটি নিউজ পোটার্লে ও পরদিন জাতিয় দৈনিক খবরপত্রে ” পাবনায় মাদক সম্রাট গ্রেফতার ১৫১ ধারায় আদালতে প্রেরন“ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সুত্রমতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নের বিলভাদুরিয়া গ্রামের হিরো কালামের ছেলে মাদক সম্রাট মোঃ খোকন (৪৫) কে গ্রেফতার করে এসআই মাহবুব ও জাহিদ।
সংবাদ প্রকাশের পর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ পাবনা জেলা পুলিশের উপর চাপ প্রয়োগ করেন। এরই ধারাবহিকতায় ফেব্রুয়ারী ২০২৫ সালে পৌর সিংগা পালপাড়া থেকে প্রায় ৬৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক সম্রাট খোকনের ৩ সহযোগীকে স্থানীয়দের সহায়তায় গ্রেফতার করে ডিবি ও থানা পুলিশ। পরবর্তিতে আটক ৩ জন প্রতিজনকে ৫কেজি করে ১৫ কেজির গাঁজার মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরন করা হয়। ৫০ কেজি গাঁজা উধাও হওয়ার পেছনে সোর্স ও পুলিশের ভাগাভাগির অভিযোগ রয়েছে। এই সংবাদ প্রকাশ করার কারনে সাংবাদিক মোবারক বিশ^াসের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় জড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। গ্রেফতারকৃতদের থানায় নিয়ে নির্যাতন করেন ওসি আব্দুস সালাম এবং তাদেরকে দিয়ে সাংবাদিক মোবারক বিশ^াসের নাম বলানোর চেষ্টা করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা সাংবাদিকের নাম বলতে অস্বিকার করায় সেবার ওসি আব্দুস সালামের পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়। পরবর্তিতে ওই বছরের ১৪ মার্চ চাঁদাবজির মামলায় সাংবাদিক মোবারক বিশ^াসকে গ্রেফতার করা হয়।
এদিকে ১৫ কেজি গাঁজা নিয়ে গ্রেফতার হওয়া ৩জন ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে যায়। এখনও মাদক সম্রাট খোকনের বিশাল সম্রাজ্য মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কেনার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে বির্তকিত ওই বিএনপি’র কর্মী পুলিশের কালো তালিকাভুক্ত আসামী। তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ব্যবসাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। গত এপ্রিলে আইনশৃংখলাবাহিনী তাকে ধরতে গেলে, আইন শৃংখলাবাহিনীর উপর হামলা করে তাকে ছিনিয়ে নেয়, তার সহযোগিরা। এদিকে ”পাবনায় মাদক সম্রাট গ্রেফতার ১৫১ ধারায় আদালতে প্রেরন“ সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে সাংবাদিক মোবারক বিশ^াসকে হত্যার হুমকিসহ নানা ধরনের হয়রানি করতে থাকে পাবনা সদর থানা পুলিশ ও বিতর্কিত বিএনপি কর্মী। এক পর্যায়ে ২০২৫সালের ১৪মার্চ সাংবাদিক মোবারক বিশ^াসের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলাসহ একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে ৮ মাস হাজত বাস করান, বিতর্কিত ওসি আব্দুস সালাম ও তৎকালীন পুলিশ সুপার আলী মর্তুজা। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে জাতিয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন পাবনা সদর থানার ওসি আব্দুস সালাম ও পুলিশ সুপার আলী মর্তুজাকে পাবনা থেকে বদলি করেন।
এদিকে পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহ গত মে মাসে পাবনায় যোগদানের পর থেকেই মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন। পাবনা জেলা পুলিশের তথ্যমতে গত ২ মাসে ১ হাজার ২শ’র বেশি মাদক ব্যবসায়ী, মাদক সেবী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করেন জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোঃ ছুফি উল্লাহ যোগদানের পর মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, ধর্ষক, কিশোর গ্যাংসহ অপরাধীদের গ্রেফতার ও অবৈধ আগ্নোয়াস্ত্র¿ উদ্ধারের ফলে আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রনে চলে আসে এবং জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে থাকে। এরমধ্যে অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সালামকে পাবনায় যোগদান করানো হলে মাদক ব্যাবসায়ী ও অপরাধীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে এবং জনজীবনে দুর্ভোগের সৃষ্টি হতে পারে। মাদক ব্যবসা ও অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাবার শংকা রয়েছে। সচেতন পাবনাবাসী মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব অসৎ কর্মকর্তাকে পাবনায় যোগদান থেকে বিরত রাখতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এদিকে ওসি আব্দুস সালামের যোগদানের খবরে ওই সব মাদক ব্যাবসায়ী ও অপরাধীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছাস লক্ষ্য করা গেছে।
আরেকটি সুত্র নিশ্চিত করেছে, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ শাজাহানকে এপিবিএনএ বদলি করার আদেশ হওয়ায় ওসি আব্দুস সালামসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে পছন্দের যায়গায় পদায়নের তদবির করেন। সেই সব কর্মকর্তাদের মধ্যে ওসি আব্দুস সালাম পাবনা সদর থানায় পদায়নের জন্য পাবনা জেলা পুলিশে যোগদান করেন। জেলা পুলিশে যোগদানের পর থেকে আব্দুস সালাম পাবনা সদর থানায় পদায়নের জন্য বিশেষ তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য ওসি আব্দুস সালাম ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে সদর উপজেলার হেমায়েতপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য ছিলেন। পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য থাকাকালীন সময়ে পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন, ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপিসহ অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ধরে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরন করতেন। সেখানে বিএনপি’র নেতা-কর্মীরা বাড়িতে থাকতে পারতেন না বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর বগুড়া বাড়ি হওয়ার কারনে অন্তবর্তিকালীন সরকার তাকে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি ইনচার্য) হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করেন। সদর থানার ওসি হিসাবে যোগদানের পর থেকেই আব্দুস সালাম ছাত্র সমন্বয়কদের সাথে সর্ম্পক্য তৈরী করেন। এরপর মাদক ব্যাবসায়ী, সন্ত্রাসী, অপরাধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে পাবনা সদর থানাকে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেন।